মুশফিকুর রহমান

পোস্টটি করেছেন-

 
  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১
 ০৯:৪৪

 মিনিট

সেনাবাহিনী, নৌ- বাহিনী এবং বিমান বাহিনীর চাকরির জন্য কিছু টিপস

বাংলাদেশের একটি গর্বিত পেশার নাম আর্ম ফোর্সেস।এটা বিশ্বের একমাত্র পেশা যেখানে ২৪ ঘন্টার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়।একটা দেশ কখনোই মাথা তুলে দাড়াতে পারেনা , যদি তাদের যোগ্য শক্তিশালী সামরিক বাহিনী না থাকে।

আমাদের দেশ অনুপাতে আমাদের সামরিক বাহিনী অন্যান্য দেশের মতো অত বড় নয়,কিন্তু জেনে অবাক হবেন আমাদের সামরিক বাহিনী অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষ এবং অনেক বেশি সাহসী।এর পরিচয় পাওয়া যায় যখন আমাদের সামরিক বাহিনী শান্তি রক্ষা মিশনে বিভিন্ন দেশে তাদের দায়িত্ব পালন করেন।

এই বাহিনীগুলো নিয়োগ নেয়া হয় অত্যন্ত নিখুদভাবে।তাই অনেক যোগ্য প্রার্থী কিছু গাইড লাইনের অভাবে নিয়োগের মাঠ থেকে ঝড়ে পরে।তাই আপনাদের জন্য সামরিক বাহিনীর চাকরির কিছু গাইড লাইন নিয়ে আসলাম,ইনশাআল্লাহ আপনাদের উপকারে আসবে।

তবে এটা বলি ,কোনো কোর্স পৃথিবীতে নেই যেটাকে বলা যাবে ,এটাই পূর্নাংগ কোর্স।তাই যদি আপনার চাকরির ইচ্ছে থাকলে নিজেকে শুধুমাত্র এই টিপস গুলোর মধ্যে বন্দি রাখবেন না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন ।তাহলে শুরু করি—–

১। প্রথমেই নিজেকে ফিট রাখতে হবেঃ

আপনার ফিটনেস শুধুমাত্র আপনার চাকরির জন্য নয় ।এটা আপনার কাছেই থাকবে।তাই নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করতে হবে চাকরির লাইনে যাওয়ার আগে থেকেই, আর এটাই মোস্ট ইম্পর্টেন ।আপনি মাঝে মাঝে সকাল বিকাল ‘পুশআপ’ দিবেন যেটাকে আমরা অনেকে বুকডাউন বলে চিনি।তবে না জানা থাকলে বেশিরভাগেরই এটা সঠিক ভাবে হয় না ।আপনি ইউটিউব দেখে এটার সঠিক নিয়ম শিখে নিন।এ ছাড়া আরো কিছু পিটির নিয়ম শিখে মাঝে মাঝে করবেন,দৌড়াবেন,রিং এ ঝুলবেন।চাকরি হয়ে গেলে টের্নিং করতে আপনার এতে কষ্ট কম হবে।এটা নিয়োগের সময় আপনার কাজে আসবে।আপনার যদি একটা মোটা সোটা দেহ থাকে ,তাহলে আপনি সাস্থ কমানোর বিভিন্ন ইউটিউবে ভিডিও আছে ওইগুলো দেখে কাজ করুন, কারন আমার এটার ব্যাপারে ধারনা কম। সাস্থ ডিফেন্সে খুব খারাপ জিনিস।আপনি যদি এই দেহ নিয়ে আপনার রাইফেলটা নিয়ে এনিমির পেছনে ধাওয়া করে গিয়ে তাঁর সামনে রাইফেলটা রেখে শুয়ে পরেন ,তাহলে হবে ? তাই মোটা দেহের লোক নিয়োগে ,নট এলাউ।তাই আগে এটা কমান ,তাঁর পর বাকি সব।

২। খাবার দাবারঃ

খাবার দাবার আসার আগে থেকে নিয়ম মেনে চলুন।অসময়ে খাবেন না।সকালে কালো জিড়া ,মধু,কাচা সোলা,ফল মূল বেশি করে খাবেন ।অবশ্যই অবশ্যই পানি দৈনিক নিম্নে ৫ লিটার খাবেন।বাসি খাবার এরিয়ে চলুন।ভাজা পুরা খাবেন না।

৩। স্কিন ডিজিজ,ছোয়াছে রোগ বা যেকোনো রোগ ,যা দেখা যায়ঃ

আপনার শরীরে যদি স্কিন ডিজিজ যেমন, চুলকানি পাচরা ,ঘা,দাউদ ইত্যাদি থাকে তাহলে আপনি কিন্তু চান্স পাবেন না।অনেকেই এগুলো শরীরে হলে ,এটা নিয়ে বসে থাকে।সামান্য কিছু টাকার জন্য ডাক্তারের কাছে যায়না।পরবর্তীতে আরো এগুলো ছরিয়ে পরে।এগুলো ডিফেন্সে চলেনা।তাই এগুলোর খুব ভালোভাবে ডাক্তারি চিকিৎসা নিতে হবে।

৪। পড়াশুনাঃ

আপনি যদি সেইলর নিয়োগের জন্য পরীক্ষা দেন ,তাহলে আপনি ক্লাস টেন পর্যন্ত যা এতদিন পড়েছেন এগুলো হালকা রিভিশন দিবেন।রিভিশন মানে এই নয় ,পুরা বই মুখস্ত।একটু চোখ বুলাবেন।ছোটো ছোটো প্রশ্নগুলোর উত্তর মুখস্ত করবেন।যেমন একটা জিনিসের সারমর্ম, কোনো একটা গল্পের লেখক এই বিষটা নিয়ে ধারণা ইত্যাদি।ছোটো ছোটো ম্যাথ গুলো প্রাক্টিস করবেন।ইংরেজী গ্রামার একটু নজর দেবেন।আর বাহিরে বেসিক নলেজ যেমন প্রধান মন্ত্রী কে, সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক কে,যে বাহিনীতে পরীক্ষা দিবেন সেই বাহিনী প্রধানের নাম র‍্যাংক পুরাপুরি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর নাম ,দেশের সম্পর্কে বেসিক নলেজ ইত্যাদি।নিজের বৃত্তান্ত বলার ইংরেজিতে এবং বাংলায় বলার প্রাক্টিস করুন। আইকিঊ প্রশ্ন পাওয়া যায় এমন কিছু বই পরতে পারেন।আর অফিসারে নিয়োগের জন্য হিউজ পরিমান পরাশুনা লাগবে ।লিখে শেষ করা যাবেনা।

৫। অন্য কোনো যোগ্যতাঃ

কিছু একটার উপরে দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করুন(করলে ভালো হয়) ।যেমন ,কম্পিউটার,খেলাধুলা, স্কাউর্ট কোনো সোসাল ওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।সনদগুলো অবশ্যই মাঠে নিয়ে যাবেন।

৬। সার্টিফিকেটগুলো ফটোকপি আসল কপি দুটোই নিয়ে যাবেনঃ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে থাকতে পারে শুধু ফটোকপির কথা।কিন্তু এমন বাস্তবে ঘটেছে ,সেখানে হঠাত করে আসল কপি চাচ্ছে,তখন বিপদে পরার জোগাড়।এজন্য সাথে নিয়ে যাবেন।

৭। ড্রেসঃ

যে ড্রেস পরবেন নিচে আন্ডার গার্মেন্টস যেমন ,জাংগিয়া তাঁর উপর সর্ট প্যান্ট এবং স্যান্ডো গেঞ্জি । যদি আপনার ফরমাল ড্রেস ,যেমন –ফুল হাতা শার্ট এবং নরমাল কাপরে বানানো প্যান্ট থাকে অবশ্যই ইন করবেন এবং পায়ে ব্লাক সু পরবেন ।এই ড্রেসটা সবচেয়ে আদর্শ।যদি না থাকে চেষ্টা করবেন, সর্ভিস মাইন্ডের ড্রেস পরার।যেমন গেঞ্জি ১০০% গোল গলা গেঞ্জি পরে আসবেন না।কলার গেঞ্জি পরেন,কিন্তু গোলাপি ,লাল হলুদ এসব টাইপের রঙের গেঞ্জি পরা যাবেনা।কালো ,নীল, সাদা এরকম হলে বেটার।প্যান্ট যদি থাকে গ্যাভার্ডিং প্যান্ট ,নট জিন্স, না থাকলে ঠিক আছে।কিন্তু এটা ইন করবেন না।পায়ে কেডস পরবেন, না থাকলে নর্মাল স্যান্ডেল।কিন্তু তিন ফিতার স্যান্ডেল পরবেন না।না থাকলে এটা কারো কাছ থেকে প্রভাইড করবেন ।পোষাকগুলো অবশ্যই ধোয়া চকচকে আয়রন করা থাকবে।উপরে ভালো পারফিউম দেবেন ,কিন্তু পরিমান কম ,না হলে পরে গন্ধ করবে।

৮। শরীরের লোম দাড়ি গোঁফ চুলঃ

অবশ্যই অবশ্যই বগলের লোম এবং নাভির নিচের লোম মাথার চুল কেটে আসবেন নতুবা লজ্জায় পরে যাবেন।মাথার চুল সর্বোচ্চ আধা ইঞ্চি কিন্তু মাথা টাক করবেন না।এটা আসার আগের দিন অবশ্যই ইনশিওর করবেন।দাড়ি না রাখলে সকালেই ক্লিন শেভ করে আসবেন।আর যদি দাড়ি থাকে ,কাটার দরকার নেই ,এটা ছাটবেন একমুষ্টি পরিমান রাখলে ভালো হয় ,আশপাশের আকাবাকা যেগুলো আছে ছেটে দিবেন ।গোফ ছোটো অবশ্যই।

৯। আসার সময়ঃ

অবশ্যই আসার সময় ভালো ভাবে সাবান দিয়ে গোছল করবেন। ভালো পার্ফিউম দেবেন শরীরে ।মুখে ক্রিম দিয়ে আসবেন।

১০। ওভার স্মার্ট সাজবেন নাঃ

অবশ্যই সালাম দিবেন যেই সামনে পরবে। রুমে ঢোকার সময়েও আগে সালাম এবং ঢোকার জন্য পার্মিশান চাবেন।সেখানে গেলে যতো পারুন কম কথা বলুন।কিন্তু যতটুকু জানতে চায় ততটুকু ,কিন্তু সব কথা উচ্চ স্বরে বলবেন।অফিসার কোনো কথায় হাসতে পারে ,আপনি হাসবেন না।যেকোনো কিছু প্রশ্ন করলে বা বললে উচ্চ স্বরে ,ইয়েস স্যার ,নো স্যার বলবেন।নিজের কনফিডেন্স বজায় রেখে উত্তর দেবেন।আপনার ব্যাপারে বোঝার জন্য উলটা পালটা কিছু বললে ওই একই, ইয়েস স্যার আর নো স্যার।

১১। পান সিগারেট খেয়ে মনের ভুলেও ওখানে ঢুকবেন নাঃ

পান সিগারেট আগে থেকেই ছেরে দিন ।আপনার মেডিকেল রিপোর্ট ভালো আসবে।আর ওখানে সিগারেটের গন্ধ নিয়ে বা পান খেয়ে ঢুকলে আপনার চাকরি নাও হতে পারে।সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।আর কিছু ভেবে পাচ্ছিনা ,এগুলো ঠিক থাকলেই ইনশাআল্লাহ হবে ।ধন্যবাদ

শেয়ার করুন__

guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments